বিকাল ৫:৪৮ | শনিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩, গ্রীষ্মকাল

হরমুজ সংকটে ইউরোপে জেট ফুয়েল ঘাটতির শঙ্কা, বিপাকে বিমান চলাচল

হরমুজ প্রণালি-তে চলমান অচলাবস্থার কারণে তেলের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় ইউরোপের বেসামরিক ও বাণিজ্যিক বিমান চলাচল খাত বড় ধরনের সংকটে পড়তে যাচ্ছে। বর্তমান মজুত অনুযায়ী, ইউরোপে জেট ফুয়েল দিয়ে সর্বোচ্চ আরও ছয় সপ্তাহ চলা সম্ভব বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফ্রান্সভিত্তিক আন্তঃসরকার সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)-এর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ইউরোপে শিগগিরই জেট ফুয়েলের অভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং এর প্রভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ইউরোপ তার ইতিহাসের অন্যতম বড় জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

বিরোলের ভাষায়, “বর্তমান পরিস্থিতি যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাবে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়বে। কোনো দেশই এর প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকতে পারবে না।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই পথ দিয়ে হয়।

টানা ৪০ দিনের সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি হলেও ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং হরমুজ প্রণালি ও ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোতে অবরোধ আরও জোরদার করা হয়।

ফলে যেখানে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত, বর্তমানে সেখানে গড়ে মাত্র ১০ থেকে ১২টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ইউরোপসহ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।