সকাল ৭:২৫ | শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬
২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩, গ্রীষ্মকাল

ভর্তিতে লটারির পরিবর্তে পরীক্ষা-কেন্দ্রিক পদ্ধতিতে ফেরার প্রস্তাব

নাগরিক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়ায় পুনরায় লটারির পরিবর্তে পরীক্ষা-কেন্দ্রিক পদ্ধতিতে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে। সংলাপের শীর্ষক ছিল “নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে আগামী দিনের শিক্ষা খাত: নতুন চিন্তা, নতুন কাঠামো ও নতুন পদক্ষেপ”। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান, এবং সংলাপটি সঞ্চালনা ও সভাপতিত্ব করেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

মাহ্‌দী আমিন লটারিকে ‘ব্ল্যাক বক্স’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “অনেক স্কুল জানিয়েছে তারা লটারি পছন্দ করছে না। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে কারা আবেদন করছেন, কারা নির্বাচিত হচ্ছেন-সবই অজানা। ইতোমধ্যে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করেছি এবং আমরা চাই লটারির পরিবর্তে পরীক্ষা-কেন্দ্রিক পদ্ধতিতে ফিরে যাই।”

তিনি আরও জানান, নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে কারিকুলামে পরিবর্তন আনার কাজ চলছে। কারিকুলামকে আধুনিক ও প্রাসঙ্গিক করার জন্য রিডিজাইন প্রক্রিয়া চলছে, যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু সার্টিফিকেট নয়, মূল্য ভিত্তিক শিক্ষা (ভ্যালু-বেইজড এডুকেশন) পায়। শিক্ষার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীর সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও আত্মকর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুতি, যাতে তারা উদ্যোক্তা হতে পারে এবং দেশের ভিতরে ও বাইরে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।

সরকারের তৃতীয় ভাষা শেখানোর প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে মাহ্‌দী বলেন, যেসব ভাষায় দেশের বাইরে কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে, সেগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে জাপান, চায়না, কোরিয়া, ইতালি, ফ্রান্স ও জার্মানির দূতাবাসের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে এবং দূতাবাস থেকে শিক্ষক পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে একেকটি জেলায় নির্দিষ্ট ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তা শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে একীভূত করা যায়।

মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য কমানো জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম ও মাদরাসা শিক্ষার মধ্যে বৈষম্য রয়েছে। ক্রমান্বয়ে বাংলা মাধ্যমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে, যা সমাধানের সুযোগ রয়েছে।