ইন্দোনেশিয়ার দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ঘুষের অভিযোগে দেশটির অভিবাসন ও সংশোধন বিষয়ক উপমন্ত্রী সিলমি করিমকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার সংস্থাটির এক মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে আরও সাতজনকে একটি পরিকল্পিত চাঁদাবাজি চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
দুর্নীতিবিরোধী কমিশন (কেপিকে) জানায়, বিদেশি আবেদনকারীদের বসবাসের অনুমতি প্রদানের প্রক্রিয়ায় অবৈধ অর্থ আদায়ের মাধ্যমে এই চক্রটি পরিচালিত হতো। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এসব দুর্নীতির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের আগে বুধবার রাত থেকে প্রায় ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর উপমন্ত্রীকে হাতকড়া পরিয়ে ও কমলা জ্যাকেট পরিয়ে কেপিকে কার্যালয় থেকে বের করা হয়। পরে তাকে জাকার্তার একটি আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
সংস্থাটির মুখপাত্র আরও জানান, সিলমি করিম সাবেক প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর শাসনামলে অভিবাসন বিভাগের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালনকালে এই অনিয়ম সংঘটিত হয়।
এ নিয়ে দুই দিনের ব্যবধানে ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাকে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার করা হলো। এর আগের ঘটনায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় দেশটির ‘বিনামূল্যে খাবার কর্মসূচি’ সংশ্লিষ্ট এক সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাকে আটক করে।
এদিকে পৃথক আরেক ঘটনায় দেশটির সাবেক শ্রম উপমন্ত্রী ইমানুয়েল ইবেনেজারকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে সাড়ে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। নিরাপত্তা অনুমতিপত্র প্রক্রিয়াকরণে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
এছাড়া গত এপ্রিল মাসেও নিকেল খাত সংশ্লিষ্ট একটি ঘুষ মামলায় আরেক শীর্ষ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় দেশটিতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান আরও জোরদার হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার চলমান আইনি প্রক্রিয়াকে সম্মান জানালেও একের পর এক গ্রেপ্তার ও দণ্ডাদেশে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।








