দেশের বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক চাপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকারি, বেসরকারি ও বিদ্যুৎ আমদানিসহ বিভিন্ন উৎসের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিল দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকারও বেশি। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ব্যাংক ঋণের পরিমাণ পৌঁছেছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকায়, যা খাতটির সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ তথ্য তুলে ধরেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ হিসাব উপস্থাপন করেন।
মন্ত্রী জানান, ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতের মোট বকেয়ার মধ্যে রয়েছে- গ্যাস ও জ্বালানি তেলভিত্তিক আইপিপি কেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি ও ফুয়েল পেমেন্ট বাবদ ১৭,৩৫৭.৬৮ কোটি টাকা, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর কয়লা ও ক্যাপাসিটি পেমেন্ট বাবদ ১৫,৪৫২.৯১ কোটি টাকা, পেট্রোবাংলার গ্যাস বিল বাবদ ১১,৬৩৪.০৬ কোটি টাকা, সরকারি কোম্পানির বকেয়া ৫,৬২৩.০৩ কোটি টাকা, ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বকেয়া ৩,৮৯১.৫৫ কোটি টাকা এবং হুইলিং চার্জ বাবদ ১৯৮.৯৪ কোটি টাকা।
তিনি আরও জানান, শুধু বকেয়া নয়, বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ব্যাংকিং খাতে মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ১,৪৯,৩১১.২৬ কোটি টাকা, যা খাতটির আর্থিক চাপকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপুল এই বকেয়া ও ঋণের বোঝা দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ খাতের বিনিয়োগ, উৎপাদন সক্ষমতা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।





