বিকাল ৫:৪৫ | সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬
৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩, গ্রীষ্মকাল

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব বিশ্ববাজারে স্পষ্টভাবে পড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পণ্য পরিবহন খরচ (ফ্রেট কস্ট) বেড়ে যাওয়ার ফলে গত মার্চ মাসে খাদ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে-এ তথ্য উঠে এসেছে জাতিসংঘের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর প্রকাশিত বৈশ্বিক খাদ্য মূল্যসূচক অনুযায়ী, মার্চ মাসে খাদ্যের দাম বেড়েছে ২.৪ শতাংশ। এর ফলে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো খাদ্যদ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেল। এর আগে টানা পাঁচ মাস মূল্য কমার পর ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবার সূচকটি বাড়তে শুরু করে।

এফএওর এই সূচকটি মূলত শস্য, চিনি, মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য এবং ভোজ্য তেলের দামের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। প্রতিবেদনে দেখা যায়, মার্চে ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে চিনির দাম, যা প্রায় ৭ শতাংশ। এছাড়া গমের দাম বেড়েছে ৪.৩ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। কারণ জ্বালানি তেল, সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবহন-সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশ্বে উৎপাদিত সারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই নৌপথ প্রায় অচল হয়ে পড়ায় সার সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। জাতিসংঘ সতর্ক করে জানিয়েছে, এই সংকট অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

গমের দাম বৃদ্ধির পেছনে শুধু যুদ্ধ নয়, প্রাকৃতিক কারণও ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রে খরা এবং অস্ট্রেলিয়ায় সারের উচ্চমূল্যের কারণে চাষাবাদ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। তবে ইউরোপে ভালো ফলন এবং রপ্তানিকারকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা কিছুটা হলেও এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করছে।