রাত ৩:০২ | শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬
২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩, গ্রীষ্মকাল

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য দেশব্যাপী উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার উদ্যোগ

দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা এবং সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে দেশব্যাপী বিশেষ প্রতিযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীন সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এসইডিপি) আওতায় ‘পারফরমেন্স বেজড গ্রান্টস ফর সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশনস’ (পিবিজিএসআই) স্কিমের অধীনে এ আয়োজন করা হবে। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব দীপায়ন দাস শুভর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে বাস্তবমুখী ও উৎপাদনমুখী শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির যেকোনো শিক্ষার্থী এতে অংশ নিতে পারবে।

প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী এবং দুইজন শিক্ষক নিয়ে একটি দল গঠন করা হবে। তবে একাধিক দল অংশ নেওয়ার সুযোগও থাকবে।

এই প্রতিযোগিতা তিনটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হবে-স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প এবং ইনোভেশন আইডিয়া।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১১ জুনের মধ্যে দেশের সব উপজেলা এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা মহানগরের আওতাধীন শিক্ষা থানাগুলোতে এই মেলা আয়োজন করতে হবে। উপজেলা বা থানা পর্যায়ের কমিটি থেকে শ্রেষ্ঠ একটি প্রকল্প নির্বাচন করা হবে।

২৪ জুন জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। জেলা পর্যায়ের মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রতিটি জেলা থেকে বিজয়ী দল জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেবে।

জেলা পর্যায় থেকে নির্বাচিত দলগুলোর তালিকা ও হার্ডকপি ২৬ জুনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) স্বাক্ষরসহ স্ক্যান করে নির্ধারিত ই-মেইল (pbgseaward2026@gmail.com)–এ পাঠাতে হবে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের ৬৪ জেলা ও ৪ মহানগরী থেকে মোট ৭৫টি দল জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেবে। এতে অংশ নেবেন মোট ৫২৫ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। জাতীয় পর্যায়ের মূল আয়োজন আগামী জুন মাসের শেষ সপ্তাহে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করা হবে। জাতীয় পর্যায়ে সেরা ১০টি দলকে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হবে এবং তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করবে।

জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ‘উদ্ভাবনী মেধাবী শিক্ষার্থী পুরস্কার’ হিসেবে ৫ হাজার টাকা এবং সনদ দেওয়া হবে। অংশগ্রহণকারী প্রতিটি শিক্ষক পাবেন ‘সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার’ হিসেবে ২৫ হাজার টাকা ও সনদ।