ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং তার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় শ্রীলঙ্কায় জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির সরকার এ মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নতুন এ সিদ্ধান্ত দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিতে আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত মাসেই শ্রীলঙ্কায় মূল্যস্ফীতি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। এর আগে মার্চ মাসে দেশটিতে জ্বালানির দাম ৩৫ শতাংশের বেশি বাড়ানো হয়েছিল। একই সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের দামও সমান হারে বৃদ্ধি পায়।
সরবরাহ সংকটের কারণে ইতোমধ্যে দেশটিতে জ্বালানি ব্যবহারে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। রোববার রাষ্ট্রায়ত্ত সিলন পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (সিপিসি) কৃষিকাজে ব্যবহৃত কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ১০ রুপি বাড়িয়ে ২৬৫ রুপি নির্ধারণ করে। একই সঙ্গে পেট্রোলের দাম ১২ রুপি বেড়ে ৪১০ রুপি এবং ডিজেলের দাম ১০ রুপি বাড়িয়ে ৩৯২ রুপি করা হয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে এপ্রিল মাসে দেশটির মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৫.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খরচ বাড়ায় পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় খাদ্যপণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
২০২২ সালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল শ্রীলঙ্কা। ওই সময় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধ আমদানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
পরবর্তীতে একাধিক সংকটের মধ্যে পড়ে দেশটি, যার মধ্যে গত নভেম্বরে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়ে অন্তত ৬৪৩ জনের মৃত্যু এবং ২ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার দেশের ১০ শতাংশের বেশি মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ওই দুর্যোগে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪১০ কোটি মার্কিন ডলার।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে পাওয়া ২৯০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তায় অর্থনীতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে শ্রীলঙ্কা। তবে জ্বালানির লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি দেশটির পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।








