রাত ৩:০১ | শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬
২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩, গ্রীষ্মকাল

গ্রিনকার্ড নীতিতে আবারও পরিবর্তন, সবাইকে নিজ দেশে ফিরতে হবে না

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিনকার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে ব্যাখ্যা দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (ডিএইচএস)। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গ্রিনকার্ডের জন্য আবেদন করতে সব আবেদনকারীকে বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে না। আবেদনকারীর পরিস্থিতি বিবেচনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্মকর্তারা।

ডিএইচএসের এক মুখপাত্র শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস-কে জানান, গত ২২ মে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা কেন্দ্র (ইউএসসিআইএস) যে নির্দেশনা দিয়েছিল, সেটি কোনো সর্বজনীন বাধ্যবাধকতা নয়। বরং কর্মকর্তাদের বিদ্যমান বিবেচনামূলক ক্ষমতার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ওই নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল।

গত ২২ মে ইউএসসিআইএস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, অস্থায়ী ভিসাধারীরা গ্রিনকার্ডের জন্য আবেদন করতে চাইলে নিজ দেশে ফিরে মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। তখন অনেকেই এটিকে নতুন বাধ্যতামূলক নিয়ম হিসেবে দেখেছিলেন।

তবে সর্বশেষ ব্যাখ্যায় ডিএইচএস জানিয়েছে, যেসব ব্যক্তি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন অথবা এমন দেশ থেকে এসেছেন যেখানে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতার হার বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশনা বেশি প্রযোজ্য হতে পারে।

গ্রিনকার্ড হলো যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপত্র, যা বিদেশি নাগরিকদের দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ দেয়। পরবর্তীতে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পথেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

২০২৫ সালে দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। এর অংশ হিসেবে অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসাধারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনকার্ড আবেদনকারীদের নিজ দেশে ফিরে আবেদন করার নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যক্তিদের সংখ্যা কমানো।

তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতারা ও অভিবাসন আইনজীবীরা তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তাদের মতে, এমন পদক্ষেপ পরিবার বিচ্ছিন্নতা, অতিরিক্ত ব্যয় এবং প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

ডিএইচএস এখন স্পষ্ট করেছে, কোনো আবেদনকারীকে দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন করতে হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্মকর্তার মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করবে। ইতোমধ্যে ইউএসসিআইএস কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের কাছে জানতে চাওয়া শুরু করেছেন, কেন তারা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই গ্রিনকার্ডের আবেদন করতে চান এবং নিজ দেশ থেকে আবেদন করার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না।

এদিকে প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক খাতের নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, কঠোর অভিবাসন নীতি বিদেশি দক্ষ কর্মীদের আকর্ষণ ও ধরে রাখার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।