১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে অন্তত দু’বার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্রে হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, যার প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই হামলার ফলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারত বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের মুখে পড়তে পারে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি পরিচালিত রাস লাফান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেন্দ্র। এখানে গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্বে মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ কাতার রপ্তানি করে, যার বড় অংশই আসে এই রাস লাফান থেকে।
হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মার্চের শুরু থেকেই এ অঞ্চলে এলএনজি উৎপাদন আংশিকভাবে বন্ধ ছিল। নতুন করে হামলার ফলে স্থাপনাগুলোর ক্ষতি হওয়ায় উৎপাদন স্বাভাবিক করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো—বিশেষ করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত—এই সংকটের বড় ধাক্কা খেতে পারে। কারণ, এসব দেশের এলএনজি আমদানির বড় অংশই কাতারের ওপর নির্ভরশীল এবং তাদের নিজস্ব মজুতও সীমিত।
এছাড়া রাস লাফানে ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সার, সালফার এবং মাইক্রোচিপ উৎপাদনে ব্যবহৃত হিলিয়াম গ্যাসও উৎপাদিত হয়। বিশ্বে মোট হিলিয়াম সরবরাহের প্রায় ২৫ শতাংশই আসে এই কেন্দ্র থেকে, যা শিল্প খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
কাতারের রাজধানী দোহা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি পারস্য উপসাগরের বিশাল গ্যাসক্ষেত্রের সঙ্গে সংযুক্ত। এই গ্যাসক্ষেত্র কাতার ও ইরানের যৌথ মালিকানাধীন, যেখানে কাতারের অংশ ‘নর্থ ডোম’ এবং ইরানের অংশ ‘সাউথ পার্স’ নামে পরিচিত।








